Tuesday, 7 November 2017

"মান করেছি"

"মান করেছি"
@স্বরভাঙ্গা
|| তবে যাইহোক,
আমি আর যাব না'কো 
তোমাদের ও পাড়ায়
শুধু যাব অই চায়ের দোকানটিতে ।
দেখি, তোমার ভায়ের রক্ত-চক্ষু
কেমনে থামায় আমায়,
শুধু যাব না'কো আর
তোমাদের ও পাড়ায়।
কি ভাবছো ? ভয় পেয়েছি আমি,
না, একদমই না--অসম্ভব।
ভয়তো পাই না আমি,
তবে রাগ করেছি
কাল কেন আসনি তুমি
বিকাল বেলায়।
এক-কাপ, দুই কাপ
দু'য়ে দু'য়ে চার কাপ
আর কতো খেতাম আমি !
তাইতো আমি মান করেছি
বলব না'কো আসতে তোমায়
আর কখনো বিকাল বেলায়।
যাব না'কো আর
তোমার ও পাড়ায়
শুধু যাব অই চায়ের দোকানটিতে ||

25-10-2016 । শাপলা ভবন ( 19 নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা।

Sunday, 5 November 2017

"দুইটা পাখির গল্প "

|| তুই আমাকে ভালবাসার গল্প শোনাস, 
শিখতে বলিশ ভালবাসা কারে কয় ! 
ওই পাগলি,
ইট, বালু, শুর্কি দিয়ে গড়া 
বহুতল ভবন দেখেছি কখনো? 
শুনেছিস কি ওর কারিগরদের আর্তনাদ 
যাদের রক্তের বিনিময়ে 
তোর ওই সপ্নের রাজ মহল? 
তবে শোন,
এক্টু এক্টু করে 
অজানা এক তেপান্তোরে হারিয়েগেছি আমি 
তোর হাত ধরে জন্ম দিয়েছি 
এক নিশপাপ ভালবাসার 
তোর অজান্তে 
তোকে নিয়ে ভেসেগেছি ঢেওয়ের তালে, 
নিজেকে না বলেই 
ভালবেসে ফেলেছি তোকে। 
আজ প্রতিটি নিশ্বাস 
শুধু তোর গান গায়ে যায় 
বেলা আবেলাই, 
এটাকে তুই কি বলবি? 
হয়তো ছেলেখেলা, 
তবে আমার কাছে 
এটা খারহীন সোনার মতই 
নিরেট তাই দামি||

"ধোঁয়াসা"

"ধোঁয়াসা"
বিশ্বাস তন্ময়

|| বিন্দুর সাথে বিন্দুর সংঘর্ষ, 
দল-হারা পাখির 
নিড়ে ফেরা হলো না আর
শুধু সময়ের পানে চেয়ে থাকা, 
বাকি সব ধোঁয়াসা ||

25-10-2016 । শাপলা ভবন ( 19 নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা।

"রিক্তের বেদন"

"রিক্তের বেদন"

বিশ্বাস তন্ময়

।। যেদিন ও থাকবে না
থেমে যাবে সব কোলাহল
স্মৃতিগুলো সব রয়ে যাবে তোলা, 
থাকবে না শুধু মায়াজাল। 
সকাল-বিকাল ডাকবে না আর, 
দেখবিনা ওকে অবেলায়, 
ঘুমের ঘোরে স্বপ্নচোরা 
উকি দিবেনা নিরালয়। 
সন্ধ্যাকালে জোনাকি দলে
মিটমিট করে প্রদীপ জ্বালে 
আলোর তালে চন্দ্র ভালে, 
শেষ দেখাও মিলবে না
তোর আংগিনাই তুই যে ওকে
আর কোন দিন দেখবি না ।।

১৩-১১-২০১৬ ।  বাড়ি ।

"ক্ষনিকের তরে"

"ক্ষনিকের তরে"
বিশ্বাস তন্ময়

।। বিদায়ের ধ্বনি ভাশে বাতাসে,
ক্ষনিকের তরে, হে বন্ধু বিদায়,
কভু যদি দেখা হয়, বন্ধু আমার,
একবার শুধাইয়ো, 
হে বন্ধু- 'কতকাল দেখিনি তোমায়'।
কত আলাপন, কত জ্বালাতন বেলা-অবেলায়, 
করিও ক্ষমা যদি করি ভুল কিছু অজ্ঞানতাই। 
আবারও আসব ফিরে, হে বন্ধু, বন্ধু বিদায় ।।

১৯-১২-২০১৬ । বাড়ির  পথে  ???। 

"অন্তহীন"

"অন্তহীন"

বিশ্বাস তন্ময়

|| একটি পথ
দিশেহারা অন্তহীন পথ
কিছু মরিচাপড়া 
ভাঁঙ্গা-চোরা স্বপ্ন,
সাথে টুটেপড়া কিছু অহংকারের 
চুপিচুপি আলাপন,
আরো অনেক বাকি, 
আরো অনেক দূরে
দিশাহীন পথের 
গতিহীন যাত্রা,
আরো অনেক বাকি 

গোধূলী হতে, সন্ধ্যা নামতে ||

23-02-2017 । বাড়ি । 

"নব ভাবনা"

"নব ভাবনা"

বিশ্বাস তন্ময়

।। আজও প্রতিটি মুহুরত 
কথা কয় আমার সাথে
প্রতি রাতে, ঘুমের ঘোরে 
হরদয়ের সুপ্তকনে শুরু হয়
অনুভূতির কল্পালাপ। 
আজও আমি স্বপ্ন দেখি ! 
বড় বড় আশা নিয়ে 
নব রচনার মহড়াকষী, 
দিগ  হতে দিগন্তে ছুটে চলার নেশায় 
চুরমাচুর হয়ে যায় নিদ্রা মাঝে। 
কিন্তু হায়, 
অতেন্দ্রীয় তন্দ্রা মাঝে 
বিচরণের ক্ষণেক শেষে 
সম্মুখে আসে নিগুড় এক বাস্তবতা 
ভূমি-কম্পের বেশে। 
তবুও, 
দিশাহীন নায়ে স্বপ্ন আমার ছুটে চলে 
নংগর হাতে নব ভাবনার খোঁজে ।।

27-04-20 17। বাড়ি ।

"গহিনের শব্দ"

"গহিনের শব্দ"

বিশ্বাস তন্ময়

|| চুপি চুপি ঘটে গেল সব
মনের গহিন কোনে
একান্তে, আপনও আলাপনে
চুরচুর চুরমাচুর শব্দ এদিক সেদিক,
বাতাসই তার গন্ধ বয়ে আনে বাতায়নে। 
কত জনই আছে ওরা, কত যে গান গায়
শুধু আমার গানের ছন্দ বিকৃত সুরে
গুমরে কেঁদে যায় ||



14-05-2017 । শাপলা ভবন ( 19 নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা। 

"একটি কবিতার জন্য"

"একটি কবিতার জন্য"
বিশ্বাস তন্ময়
|| একটি কবিতার জন্য হেঁটেছি আজ অনেকটা পথ,
যেতে যেতে দেখা হলো সবুজের সাথে, 
দেখলাম একদল মেঘ দাঁড়িয়ে আছে আমার পথটা জুড়ে।
একটু হেসে শুধালাম ওদের;
আচ্ছা মেঘ, 'মেঘান্বেষী'রে দেখেছো কি ওদিকে ?
ও বলল; হুম, তবে মেঘান্বেষী হারিয়ে আজ মেঘেদের দলে।
সোধ-বোধ পাছে ফেলে রয়লাম চুপ করে,
তারপর শুধালাম সবুজেরে;
আচ্ছা সবুজ,
'হরিণী বালিকা' আমার আজও কি আসে পাড়ায় তোমার?
ও বলল; শেষবার দেখেছিলাম ওরে গতবার বন্য হলে।
পুরানো স্মৃতি পাছে ফেলে যাত্রা করলাম শুরু,
একটি কবিতার খোঁজে।
দেখা হলো 'একদল পাখির' সাথে,
ওরা বলল; ওহে 'যাযাবর' কবি তুমি আজ মলিন কেন?
বললাম ওদের, কবিতা যে আজ গেছে হারিয়ে সমস্থ ঘর শূন্য করে।
অট্ট হেসে বলল ওরা;
কবির আবার হারানোর ভয়?
একটু থেমে অপন মনে বললাম ওদের সস্থা-দামে;
'হারানোর ভয় পায় না যে কবি, ভয় পায় অই অভিনয়ে'।
শোন হে কবি শোন তবে; বলল ওরা অপন ঢংয়ে,
'সংকীর্ণ হৃদয় ভালবাসে একবার, আর ক্ষুদ্র হলেও তুমি তো কবি,
কবিতা সেতো মিথ্যা ছবি,
ভালবাস তবে অই কবিত্বরে, কেন মরো ছুটে মিছেমিছে?
বললাম মৃদুস্বরে;
কবিত্ব যে দেনা পড়ে আছে অই মেঘান্বেষীর কাছে,
তাই তো ওরে খুঁজে বেড়ায় সকাল-বিকাল-সাঝে |
|

05-08-2017 । শাপলা ভবন ( 19 নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা। 

"শখী"

"শখী"
বিশ্বাস তন্ময়

|| শখী, 
কেটে গেল আর এক প্রহর তোরই বিহনে, 
দিবা গতে এলো রাত, বসন্ত পেরিয়ে শীত,
আসিলি না শুধু তুই।
হারিয়ে গেল নব প্রভাত ঐ উদয়ন মুখে, 
গাঁথিল না মুক্তমালা শিশির বিন্দু দিয়ে
আজন্ম বাসনা, আর অতৃপ্ত আত্মা হাহাকার
বক্ষে ধারণ করে,
আছি আমি আজও তোরই পথ চেয়ে।
সব চলে যায়, সবই ছেড়ে যায়,
শুধু বসুমতি যায় বয়ে অপন রেখায়।
সময় ওযে ফিরে ফিরে চায়,
কত পাখি আসে কত গান গায়,
অমি শুধু রই পড়ে তোরই প্রতিক্ষায়।
এইতো সেদিন এসেছিল ও,
করেছিল নিবেদন অশ্রুধারায়,
শিক্ত হিয়ার তপ্ত রোধন
আজও ভাশে মোর প্রাণে।
তবু, আজও আমি হায়
পথ পানে চাই
যপি তোরই নাম এই নিরালায়,
বন্ধ কুঠির দ্বারে, সময় খেয়ার বিপরিত অভিসারে। ||



১৬-১১-২০১৬ । । বাড়ি ।

"খুনশুটি"

"খুনশুটি"
বিশ্বাস তন্ময়

|| কত খুনশুটি তোমাতে আমাতে
বেলা অবেলায় কত গল্প, 
কত মান অভিমান।
দৃষ্টির আড়ালে, একটু দূরে গেলে 
সহস্র ভয়ানুভূতির একত্র আন্দোলন, 
ধমনির নিন্ম মুখে সঞ্চালন, 
তন্দ্রানীর ঊদ্ধ মুখে পলায়ন- অরও কত কি! 
আবার ক্ষণেক বাদে 
তোমার চোখের আবেশী আলাপনে 
সব ক্লান্তির অবসান। 
সব কিছু কতই'না সত্য বল! ||


00-00-20 । শাপলা ভবন ( 19 নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা। 

"দিশেহার"

"আর্তনাদ"
বিশ্বাস তন্ময়

||দেনা-পাওনার ইতিকথা,
প্রতিশ্রুতির তপ্ত শৃখল,
কর্তব্যের ণাগপাস,
গভীর রাতে হঠাৎ আর্তনাদ,
দিশেহার মন,
অন্তর আত্মার তিক্ত-কটু গন্ধ,
যোগীর ধ্যানে বর্জ্য বৃষ্টি
সব তচনচ, তচনচ, লন্ড-ভন্ড||



 31-10-2016 । শাপলা ভবন ( 19 নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা। 

"কোন মানে হয়!"

"কোন মানে হয়!"

 বিশ্বাস তন্ময়

|| একটি তাঁরার খোঁজে
কখনো এদিকে আবার কখনো ওদিকে
কোন মানে হয়!
কখনো সুবিশাল আকাশের নিচে
চন্দ্রিমা রাতে,
আবার কখনো খাল-বিল পেরিয়ে
ছোট্ট নদীটির তীরে
হাজারও তাঁরার ভিড়ে, একটি তাঁরার খোঁজে
কোন মানে হয়!
আবছা আলো-ছাঁয়া মাঝে
দূরের গাছ গুলো বা কাছের মানুষ গুলো
কোন কিছুই দৃশ্যমান নয়
অস্পষ্ট…ভয়ংকরও বটে।
কোন মানে হয়!
বিশাল প্রস্থর খন্ডের উপর ঠিকরে পড়া
প্রভাতের আলোক রশ্মিও
মাঝে মধ্যে তাঁরার মতোই প্রতীত হয়
কোন মানে হয়!
ছোট্ট ছোট্ট গুল্ম-মাঝে
হাত-পা হেলানো, ঊল্লো-ঘুল্লো চুলের
খেঁজুর বৃক্ষই এ বনের রাজা অথবা রানী
কোন মানে হয়! ||

 03-11-2017 । শাপলা ভবন ( 19 নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা। 

Thursday, 17 March 2016

হরিণী তুমি


    "হরিণী তুমি"

    বিশ্বাস তন্ময়

|| মেঘ বিলাসি তুমি যে এক মৃদু কমল ভাষীনি
আধো-কালো বসনে তুমি কবি মন হরণী 
প্রশান্তির ঔ ছায়ানীড়ে তুমি যে কবি কায়া
দূর থেকে আজি দেখিনু ঔ শুভ্র বদন মায়া
তবে কেন হায় দেখিনি তোমায় পূ্রবে-দিবালোকে !
গোধুলীর ঔ আবছায় আলোয়, যেন দেখিনু প্রথম তাকে
এত অপরুপ প্রেমভাসিনী হরিণী মায়াবিনি
দৃষ্টি যেন নি্রঘুম রাতে সদ্য ফোঁটা দামিনী
লালচে রঙ্গা ওষ্ঠ যুগল রঙধনু হাসি মাখা
অঙ্গ যেন বিষ-বাসিনী খুঁজিছে অমর সখা
হায় হায় হায় হতভাগা সে, করিয়াছে হেলা
বুঝি নাই সে, ফুটিয়াছে ফুল গন্ধ কাননে !
হায়রে ও নি্রবোধ কবি কল্পনাতেই আঁকলি ছবি
বুঝলিনা তুই স্পর্শ তাহার কাবিতার চেয়েও অনেক দামী ||



                                                                16-03-2016 । শাপলা ভবন ( 19 নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা। 

Tuesday, 17 November 2015

খবর

           "খবর"

            বিশ্বাস তন্ময়


খবর আসছে এক বাতাসের মেলে চেপে
মহাপ্রলয়ের খবর
হঠাৎ বজ্রপাতে স্তম্ভীত হবে পৃথিবী
বার্ধক্য প্রহরে তারুন্যের উন্মাদনায় অভিশপ্ত পৃথিবী
দেখবেনা দ্বাবিংশের আলোক ছটা আর
বাতাসে তাই বারুদের গন্ধ ভাশে আজ
মাটিতে ঝলকায়  রক্তের মানচিত্র ।
খবর আসছে এক আগমনী বার্তা নিয়ে
মহামারির অর্তনাদ বক্ষে ধারণ করে
দূরন্ত দূর্মদ গতিতে সময়ের পাতা জুড়ে
চারিদিকে তাই শোনা যায় হাহাকার
খরা দুর্ভিক্ষে হবে সব ছারখার।

Monday, 16 November 2015

পূর্বাভাশ

 "পূর্বাভাশ"
 বিশ্বাস তন্ময়

|| সময়ের দোলায় দুলতে দুলতে
আসছে সে দিন এক
যে দিন ধরিত্রী মাতার জঠর ফাড়িয়াও
জুটবে না এক মুঠো শস্য বিন্দু
আমার পিতার স্কন্দে লুটায়ে থাকবে আমার লাশ
সহস্র রমনীর দুগ্ধ দিয়ে তৃষ্না মেটাবে বসুমতি!
দশদিক হতে আমি আজ রণহুম্কার শুনতে পাই
ছোখ বুঝলে রক্ত লেলিহান শিখা হাতছানি দিয়ে ডাকে আমায়
এক মহাযুদ্ধের পূর্বাভাশ দেখতে পাই দিকে দিকে!
আমি তো শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় অপেক্ষয়মান
যে দিন ব্রহ্মান্ডের প্রতাপশালীর মুখে জুটবে না নিজ বিষ্টা
হিংসা বিদেষের শৃংখল দিয়ে পাকড়াও করা হবে স্বয়ং জগৎঈশ্বর কে
এবং এই মানব সরবরেই হবে ওর বিচার !
যে দিন ক্ষুদার জ্বালায় মুমুর্ষ প্রায় শকুনের দল
টেনে হিচড়ে ঘরের বাহির করবে আমার কুলদেবীকে
সেদিন আমি আমার হিংসাত উদর পুর্ত্তি করবো
আমার মায়ের রক্ত দিয়ে !
আসছে সে দিন এক চারিদিকে তারই পূর্বাভাশ শোনা যায়। ||


                              ১৬-১১-২০১৫ । শাপলা ভবন (১৯ নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা। 

Saturday, 14 November 2015

সময় খেয়া


"সময় খেয়া"
বিশ্বাস তন্ময়

|| এক দুই তিন করে হারায় যে সব সময়ের ঘরে
ওরে, সময়ের খাঁচা কে বাধিল’রে ?
দু’দিনের এই ছোট্ট জীবন পাবিনা’রে আর
ভুলে সব হিংসা বিবাদ সময়কে জাপটে ধর
করে যা সব কৃতকার্য মানিস না’কো হার ।

দাসের ন্যায় জীবন তোরা সইবি কত কাল
প্রভুদের অই পদ তলেই রইবি চিরকাল ?
সুখ-দুঃখের অন্তরালে দেখরে এবার জগৎটারে
প্রকৃতি কেমন চুপিসারে ছন্দ বুনে যায়
চলরে মোরা সবাই মিলে প্রকৃতির সুরে গায়।

অই যে দেখ হিমাদ্রি আছে দন্ডায়মান
হিমাদ্রির মতই তোরা করে যা সংগ্রাম
দুঃখ যতই আসে আসুক মাথা নোয়াবার নয়
আঁধার শেষে আলোর দেখা মিলবে নিশ্চয়
সময়ের অই যন্ত্রকে তোরা করিস কেন ভয় ?

সময় ও'যে বড় নিষ্ঠুর একা একা বোয়ে যায়
সময়ের টানে প্রিয়জন শুধু দূরে সরে চলে যায়
তাতে নেই যে মোদের ভয়
ভেঙ্গেফেলে অই জীর্ন কুঠির
চলরে মোরা সবাই মিলে সময়ের খেয়া বাই ||

শুধু মানিস নে পরাজয়
পরাজয় যদি মানতেই হয়, পাকড়া তবে মৃত্যু দুয়ার
অপমানিতের মরণ জ্বালায় জ্ব্লবি কত আর ?

                      
                                    ১৪-১১-২০১৫ । শাপলা ভবন (১৯ নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা। 

Thursday, 5 November 2015

ভিখারী দর্পন


"ভিখারী দর্পন"
 বিশ্বাস তন্ময়

|| ভিখারিদেরও আবার জাত আছে নাকি !
ভিক্ষাবৃত্তি যাদের অভ্যাস তারা তো ভিক্ষা করবেই !
উদার পুত্তির জন্য কিসের আবার নিমন্ত্রণ !
পেট পূজা হলেই হলো, তা তাতে যদি কেউ কুকুর ভাবে
তাতে তেমন আর কি এসে যায় !
আমরা হলাম সমাজের নিকৃষ্ট শ্রেণীর লোক, যাকে বলে যাচ্ছেতাই !
বাবুরা যদি একটু ভালবেসে, আদর করে গালি দেয় বা ভিষ্মণ বাক্য প্রয়োগ করে
কিম্বা স্নেহ করে জুতাতে একটু ছানার ন্যায় মল মাখিয়ে নাকে-মুখে বুলিয়ে দেয়
তাতে কি বা এমন এসে যায়, মলটা মুছেফেলে একটু আড়াল করে
ছানাটা উদার পুত্তি করাতেই আমাদের প্রশান্তি !

কিন্তু, একাকি নির্জনে যখন জলাশয় মাঝে
কালো রক্ত নালী দিয়ে খসে-গোলে পড়া রক্ত মাংসের
প্রতিবিম্ব চখে পড়ে, তখন নিজের অজান্তেই ভয়ে আত্কে উঠি !
সত্যি-ই কি এটাই চেয়ে ছিলাম !!!
হৃদয় কুঠিরে একটি প্রদীপ প্রজ্বলন করে
তার প্রভা বিশ্ব দুয়ারে ছড়াতে চেয়ে ছিলাম !
কিন্তু, একি হলো !
প্রদীপ শিখা যে উর্বর আত্মাকে কুলসিত করে দিল
জ্বালীয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিল সেই হৃদয়কেই !
আর আত্মা পোড়া সেই তিক্ত-কটু গন্ধ !
না, আমি আর দম নিতে পারিনা, হৃদয্ন্ত্র বিকল হয়ে আসে !
মাঝ নদীতে হাবুডুবু খাওয়া মানুষটির ন্যায় শেষ রক্ষার আশায়
বাবুদের তিক্তু-বিষাদ শীতল ছায়া প্রত্যাশা করেই আমাদের অন্ন-বস্ত্র,
দেখা-অদেখা, আশা-নিরাশার মাঝের শেষ অনুভূতি-ই পথ চলার শেষ পন্থা |
সৃষ্টি কর্তা সৃষ্টির সাথে সাথে যদি একটা হৃদয় মাপা পাল্লা পাঠাতেন
তবে ভিখারিদের আত্মাকে নংড়ে-মুচড়ে দেখতাম সেখানে কই ছ্টাক অনুভূতি অবশিষ্ট আছে !
যে সত্তা তার আত্মাকে চিনতে পারে না, তাকে আমি ঘৃনা করি |
দূর কর তোমার অই স্নেহের শীতল পাটী, আমারা সামনে থেকে !
অভুক্ত হয়েই আমি বেশ আছি, চায় না তোমার স্নেহের কাতরতা
তোমরা তো উপর তলার লোক, তাই তো জুতার মালা আমাদেরই প্রাপ্য !
আজ ভালবাসা কে ভালবাসা আর ঘৃনা কে ঘৃনা বলতে বড় লজ্জাবোধ হয় |
কাব্যিক চর্চা তো শুধু বাবুদের জন্য, তবুও বলতে ইচ্ছা হয়;
"ভাল লাগে সব কিছু ভাল লাগে, মানুষের সঙ্গ ছাড়া আজ সব কিছুই ভাল লাগে" ! ||


                                                                   ০৫-১১-২০১৫ । শাপলা ভবন (১৯ নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা।

Wednesday, 4 November 2015

ফিরতি আকাশ



                     "ফিরতি আকাশ"
                         বিশ্বাস তন্ময়

 || সাদা কাল নীলের মোড়কে আচ্ছাদিত সুবিশাল আকাশ
   তারই মাঝে দক্ষিণা মুখে ভেঁসে চলা বিশাল হিমাদ্রীর
   গা বেঁয়ে ঝরে পড়া ঝরনা ধারা টাপুর টুপুর শব্দে পতিত হচ্ছে
   তৃণ-গুল্মাধীর সবুজ ফ্রেমে বাঁধান জলাশয়ের বক্ষ ভেঁদ করে |
   ঢেউয়ে তালে তাল মিলিয়ে নেচে চলা শেওলা ফুলের
   প্রেমে মহিমার্নীত হয়ে সান্ধ্য বালিকার সর্পের ন্যায় একে বেঁকে অবগহণ,
   ওষ্ঠ দিয়ে ঝরে পড়া বিন্দু বিন্দু জল কণা মাঝে সৃষ্ট  সুবিশাল জল রাশি
   তারই উপর ভাঁসমান পালতোলা নৌকা নিয়ে দিক-বেদিক হারানোর
   বাসনা জাগল প্রাণে, আজ এ সন্ধ্যায় বসে ফিরতি ট্রেনের কণে ||

                                                                   ০৪-১১-২০১৫ । শাপলা ভবন (১৯ নম্বর - হোস্টেল ), ঢাকা।

Wednesday, 28 October 2015

মেঘ বাড়ি

 "মেঘ বাড়ি"
 বিশ্বাস তন্ময়

|| অই দূর মেঘের উপর বানাবো একটি বাড়ি
দঃখ যতই আসে আসুক দেবো সে পথ পাড়ি
বিশাল কুঠির চাই না আমার করতে বসবাস
লতা পাতা আর গুল্ম হলেই কেটে যাবে রাত
কর্মহীন বলে আমায় দিওনা শুধু গালি
দঃখ-কষ্ট ঠেলেও আমি এখনো পথ চলি
স্বপ্ন আমার স্বপ্নই রবে তা কি করে হয়
স্বপ্ন যে ওরা ঘুমের ঘোরে বাস্তবে কথা কই ||

                                                                                                  মাঃডাঃ,কেশবপুর। ২৮।১০।১৫